শত বৎসর পূর্বে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত বলিয়াছিলেন যে "ধর্ম পুরুষ কতৃক রচিত, ইহা পুরুষগন রচনা করিয়া নারীর অধিকের খর্ব করিয়াছে"। কথাখানা সত্য না মিথ্যা সেই ঝুক্তিতে না হয় পরে যাইবো দেখিবার বিষয় এই যে ধর্ম বিবেচনায় কথাখানা কতখানি গ্রহনযোগ্য।

https://f9article.blogspot.com
https://f9article.blogspot.com
আমি আজ ইহার স্বপক্ষে আমার একান্ত ব্যক্তিগত কিছু মতামত তুলিয়া ধরিব সুশীল সমাজের জন্য কমেন্ট সেকশান উন্মুক্ত থাকিল।
https://f9article.blogspot.com
https://f9article.blogspot.com

  ১) রামায়নের কাহিনী কমবেশি আমরা সকলেই জানি। রামায়নে ভগবান রামের চরিত্র সত্যি প্রশংসার দাবীদার। লংকার রাজা রাবন কতৃক তাহার সপত্নী হরন হইবার পরে তাহার উধাসীনতা, তাহার ত্যাগ, সীতা উদ্ধার করিবার জন্য তাহার যুদ্ধ করিবার সিদ্ধান্ত সত্যি প্রশংসার পরিপূর্ণ হকদার। যুদ্ধ পরিসমাপ্ত হইল সীতা উদ্ধার করিয়া রাম নিজ রাজ্যে ফিরিল সবি চলমান গতিতে চলিতে লাগিল। কিছুসময় পরে সীতা যখন অন্তসত্তা তখন প্রজাদের মধ্যে একখানি প্রশ্ন জাগিল সীতা অনেকদিন যাবত রাবনের নিকট বন্ধিনি ছিল তাহার চরিত্র সম্পর্কে তাহাদের মনে এক সন্দেহের সঞ্চার উৎপত্তি হইল। রাম তখন অযোধ্যার রাজা। গুপ্তচর দ্বারা যখন তাহার কানে কথাখানি পৌছাইলো তখনি ঘটিল বিপত্তি। শুধুমাত্র প্রজাগনের মন রক্ষা করিবার জন্য তাহার সেই সিদ্ধান্ত কে সবাই সমর্থন করিলেও আমি সেইখানে স্বামী হিসেবে তাহার দায়িত্ব বোধের এক অভাব লক্ষ করিলাম। তাহা নিতান্তই এই রকম স্ত্রীর প্রতি স্বামীর পরিপূর্ণ অধিকার তাই স্বামীর যেকোন সিদ্ধান্ত স্ত্রী মানিয়া লইতে হইবে। তাহাই ঘটিয়াছিল সেইদিন প্রজাগনের মনোরঞ্জনের জন্য রাম তাহার অন্তসত্তা স্ত্রী সীতাকে বনবাসে পাঠাইয়া ছিলেন। সীতাও বাধ্য স্ত্রীর ন্যায় স্বামীর সিদ্ধান্ত কে চুরান্ত মানিয়া লইলেন কোন প্রতিবাধ করিলেন না।

২) চার-পাচ হাজার বৎসর পূর্বেকার লুপ্ত আইন-কানুনের একটা ধারায় সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরিলাম এটা সম্পূর্ণ সংগৃহিত ভূলভ্রান্তি থাকিলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখিবেন।
 
*Togi Cototi otog--"If a wife hates her husband and says, “thou art not my husband into the river they shall throw her.”
“If goši tāf; Giol Asso, “If a husband says to his wife, ‘thou art not my wife’ half a mina of silver he shall weigh out
 to her and let her go.”

অর্থাৎ স্ত্রী যদি স্বামীকে পছন্দ না করে, তাহা হইলে তাহাকে নদীতে নিক্ষেপ কর, আর পুরুষ যদি পছন্দ না করে, তাহ হইলে আধ মিনা ওজনের রূপা দিয়া বিদায় করিয়া দাও। কি সূক্ষ্ম বিচার । আধ মন রূপা কতখানি, অবশ্য সে-কথা বলিতে পারি না, কিন্তু যতই হোক, জলে ডুবাইয়া মারার সঙ্গে নিক্তিতে  নারীর মূল্য যে ওজন হইতে পারে না, তাহ নিশ্চয় বলিতে পারি। প্রাচীন বেবিলনের ১৩৭ হইতে ১৪৩ ধারায়ও ঠিক এইমত ব্যবস্থাই আছে

©Copyright - মানবতার সাতকাহন

https://f9article.blogspot.com