মানুষ যে ধর্ম পালন করবে ধার্মিক হবে সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করবে এটাই নিয়ম কিন্তু ধর্ম যখন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন তখন  তো সেটা অস্বাভাবিক ই বলা যায়। ধর্ম যাদের একমাত্র উপার্জন করার রাস্তা তারাতো সবসময় স্রোতের অনূকুলে থাকার চেষ্টা করে যাবে। কিন্তু যারা আমার আপনার মত সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ তারা সব দেখে সব বুঝেও কিন্তু প্রতিক্রিয়া করার বিন্ধুমাত্র প্রয়োজন বোধ করেনা।


 


 


কারন টা পরিষ্কার একদল ধর্মান্ধ যাদের সকল শিক্ষা সকল জ্ঞান সকল বুদ্ধিমত্তা এই কল্পিত ধর্মের যাতাকলে হুমড়ি খেয়ে পরে আর আরেক দল সমাজ সামাজিকতার দায়বদ্ধতা, পরিবার ও সামাজিক স্বীকৃতি বিচ্যুতির ভয়ে চুপ থাকাটাই মূখ্য মনে করে হয়ত আর সেই সুযোগে দিনে দিনে বাড়ছে ধর্মব্যবসা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তা হয়ে উঠেছে সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় আয়ের উৎস।

শুধুমাত্র গরিব অস্বচ্ছল পরিবারের জন্মগ্রহণকারী, দু’বেলা ভাতের জন্য, ক্ষুধার জ্বালা নিবারণের জন্য আমাদেরই বোন আজ পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। উপার্জনক্ষম পুরুষ না থাকা সহায় সম্বলহীন চরম দারিদ্রতা মূলত এদের দেহ ব্যবসার মত নিকৃষ্টতম পেশায় জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
কিন্তু এর চাইতেও একটি জঘন্য পেশা আছে, এর চাইতেও একটি নিকৃষ্ট ব্যবসা আছে। সমাজে একটা সর্বনিকৃষ্ট শ্রেণী বসবাস করে যারা উক্ত নিকৃষ্ট পেশা ও ব্যবসার সাথে জরিত। জানেন সেই ব্যবসাটার নাম কি? সেটা হচ্ছে ধর্মব্যবসা আর যারা এটা করে তারা হল ধর্মব্যবসায়ী। এই ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণীটির উপার্জন করার সামর্থ্য থাকার পরও অঢেল সহায়-সম্পদ থাকার পরও তারা ব্যবসা করে থাকে ধর্মকে নিয়ে, এই নিকৃষ্ট ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে সৃষ্টিকর্তাকে বিক্রি করে দেয়, সামান্য দুনিয়ার পদ-মর্যাদা লাভের জন্য। যুগের দোহাই দিয়ে, সময়ের দোহাই দিয়ে কল্পিত স্বর্গলাভের লোভ দেখিয়ে ভিতরকে বাহির, বাহিরকে ভিতর করে দিয়েছে ধর্মব্যবসায়ী পুরহিতরা শুধুমাত্র তাদের ধর্মব্যবসার স্বার্থে।
বলার অপেক্ষা রাখে না দেহ ব্যবসায়ীদের এই সময়ের ধর্মব্যবসায়ীরা যে কতটুকু নিকৃষ্ট। কারণ দেহ ব্যবসায়ীরা বিক্রি করার মত কিছু অবশিষ্ট না থাকায় অপারগ হয়ে দেহ ব্যবসা করছে। তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ব্যবস্থা করলে তারা পতিতাবৃত্তি ছেড়ে দিবে। কিন্থ আপসোস ধর্মব্যসায়ীদের জন্য! তারা শুধুমাত্র নিজেদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য করেছে বারো মাসে তের পার্বণ এর ব্যবস্থা যা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, তাইতো দশকের পর দশক ধরে জমজমাট এ ব্যবসা। বেকার থাকার কোন সুযোগ বা সম্ভবনা কোনটাই নেই।
দুর্গাপূজা করলে শক্তি লাভ, তার পরে লক্ষীপুজা করলে ধন লাভ তারপর আবার স্বরসতী পূজা করলে বিদ্যা লাভ তারপরে কি শেষ, না এটাকে তো নিতান্তই সূচনা বলা যেতে পারে। 

                              " ক্ষুধার্ত মানুষের তুলনায় দেব দেবীর সংখ্যা কম কি? "


তাইতো বারো মাস ধরে অগণিত পূজা পার্বণ আর ব্যবসায়ীদের পকেটের ওজন বৃদ্ধি পাওয়া।
তাই ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, পতিতাবৃত্তির তুলনায় ধর্মব্যবসা নিকৃষ্ট।

পাঠকদের জন্য বরাবরের মত কমেন্ট বক্স উন্মুক্ত থাকলো।

©Copyright - মানবতার সাতকাহন

https://f9article.blogspot.com